Homeআল কোরআন ও বিজ্ঞানকিয়ামত কি খুব কাছে!!!..

কিয়ামত কি খুব কাছে!!!..

بسم الله الرحمن الرحيم
‘শেষ জমানা’ কি? – ‘শেষ জমানা’ হল শেষ সময়ের যুগ। যখন মানুষ পরকালের প্রতি সমস্ত বিশ্বাস হারিয়ে দুনিয়াকে পাবার জন্য ব্যস্ত হয়ে যাবে, পাপ পঙ্কিলতা ও অনৈতিকতায় সর্বনিম্ম স্তরে পৌঁছে যাবে এবং নিজেরা নিজেরা মারামারি কাটাকাটি করে সভ্যতাকে(!) চূড়ান্ত পরিনতির দিকে নিয়ে যাবে তখন ইসা(আ:) [Jesus] কে পুনরায় পৃথিবীতে পাঠানো হবে সমস্ত সভ্য (!) মানুষকে সাইজ করে দুনিয়ায় পুনরায় আল্লাহর মনোনীত জীবন বিধান ইসলামকে প্রতিষ্ঠিত করতে। – আচ্ছা, সেই শেষ জমানা থেকে আমরা কতদূর অবস্থান করছি? মহানবী (সা:) অনেক গুলো ভবিষ্যৎবানী করেছেন সেই শেষ জমানাকে চিনে নেবার জন্য। চল দেখি ভবিষ্যৎবানী গুলো কি কি…. – ১. কেয়ামতের পূর্বমুহূর্তে গান-বাজনা, মদ্য পান এবং কু-প্রবৃত্তি পূরণের মাধ্যমগুলো সহজ ও ব্যাপক হয়ে যাবে। এমনকি দিনে দুপুরে রাস্তাঘাটে যুবক- যুবতী যৌনাচারে লিপ্ত হবে।রাস্তা-ঘাটে খোলামেলা যৌনাচার চোখে পড়বে, বাঁধা দেয়ার কেউ থাকবে না। সে কালের সর্বোৎকৃষ্ট ব্যক্তি সেই, যে সাহস করে বলবে- রাস্তা থেকে সরে গিয়ে একটু আড়ালে যদি এই কাজ করতে!! সে কালে সে-ই এ কালে তোমাদের আবু বকর- উমর সদৃশ।-” (মুস্তাদরাকে হাকিম-৮৫১৬) [বেশ কয়েক বছর আগে জনৈক বন্ধু আমাকে বলল, তুমি কি সন্ধ্যাবেলা ঢাকা টি.এস.সি –এর শেডের পাশ দিয়ে যাতায়াত করেছ? আমি আশ্চর্জ হয়ে বললাম নাতো! কেন? সে বলল ওখানে সন্ধ্যাবেলা খোলাখোলি ভাবে ওইসব হয় হেঃ হেঃ হেঃ (ওইসব বলতে কি সব তা বুঝে নাও।) ইউরোপের কোন এক দেশে বাসের ভিতর ‘ওইসব’ করার সময় কেউ কেউ মৃদু আপত্বি জানিয়েছিল বৈকি, কিন্তু সেই কাজ করা থেকে তারা বিরত হন নি। এটা ছিল ২০০৫-২০০৬ সালের ঘটনা। জাপান অথবা চীনের বাসেও একই ঘটনা ঘটেছিল কিন্তু সেখানে অন্যান্য যাত্রিরা তাদের হাততালি দিয়ে উৎসাহ দিয়েছেন। এটা ২০০১-২০০৩ সালের ঘটনা। চেক প্রজাতন্ত্রে, রাশিয়ায় ও আরো কিছু উন্নত রাস্ট্রে(!!) সম্পূর্ন নগ্ন হয়ে যুবতীরা হাসিমুখে রাস্তা দিয়ে হাটাহাটি করেন। যার ইচ্ছা হয় তারা সেই সব যুবতীর সাথে হাসি হাসি মুখে সেল্ফি তুলতে পারেন। কোন সমস্যা নেই। – ২.“যত দিন লোকেরা মসজিদ নিয়ে গর্ব না করবে ততদিন কিয়ামত হবেনা’’ ইমাম বুখারী (রঃ) আনাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করে বলেনঃ ‘‘লোকেরা মসজিদ নিয়ে গর্ব করবে, কিন্তু ইবাদতের মাধ্যমে তা আবাদ করবে না’’ উমার (রাঃ) মসজিদকে জাঁকজমক করতে নিষেধ করেছেন। [ বিগত ৪০ বছরের মধ্যে সৌদি, দুবাই, কাতার, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইত্যাদি দেশের প্রধানরা মসজিদ জাঁকজমক করার প্রতিযোগিতায় যে মেতে উঠেছেন সেটার কথা না হয় নাই বললাম। টাংগাইলের মত মফস্বল শহরের মসজিদগুলোতে টাইলস, ঝাড়বাতি লাগিয়ে প্রতিটি মসজিদকে যেভাবে জাঁকজমক করা হচ্ছে সেটা দেখে আমি শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়েই থাকি। – ৩. “কিয়ামতের পূর্বে ব্যাপক হত্যা প্রকাশ পাবে এবং এর পর কিছু বৎসর এমনভাবে অতিবাহিত হবে যেন সেগুলো ভুমিকম্পের বৎসর। বেশী বেশী ভূমিকম্প না হওয়া পর্যন্ত কিয়ামত প্রতিষ্ঠিত হবেনা’’ কিয়ামতের পূর্বে এমন দিন আসবে যে তাতে মুর্খতা অবতীর্ণ হতে থাকবে এবং ‘হারজ’ বেড়ে যাবে। লোকেরা প্রশ্ন করলো ইয়া রাসূলাল্লাহ ‘হারজ’ কী? তিনি বললেন হত্যা।)।” – হাদীস। [এখন তো পেপার খুললে খুনের খবর ছাড়া আর তেমন কোন খবর চোখে পড়ে না। আর ভূমিকম্পের ব্যাপারে বলা যায় খুব কম সময়ের মধ্যে বেশ কয়েকটি জায়গায় ভূমিকম্প হয়েছে এবং হচ্ছে তোমরা তা অবগত আছ। আমি ৪ তলার উপর থাকি এবং আমাদের বাসাটা চিকন খাড়া বলে ভূমিকম্পের অনুভূতিটি বেশ ভয়ংকর ভা্বেই হয়। এমনকি ইদানিং প্রায় রাত্রিতেই মৃদু ভূকম্পন টের পাচ্ছি যেগুলোর খবর সংবাদপত্রে আসে না এবং মানুষজন টেরও পায় না। একবার এরকম ঘটনার খবর ফেবুতে দেওয়ার পর জনৈক বন্ধু বলল, হয়ত রাতে জ্বিন পরী সংগ দেওয়ার খাটে উঠেছিল তাই ভূমিকম্পের অনুভূতি হয়েছে (!!!)। আমারও ভুল হতে পারে ভেবে দৈনিক টেবিলের উপর কাঁচের গ্লাসে অর্ধেক পানি রেখে পর্জবেক্ষন শুরু করলাম। হ্যাঁ, প্রায় রাতেই গ্লাসের পানি নড়াচড়া করে। খোঁজ নিলাম আশে পাশে কোথাও পাইলিং হয় কিনা। রাতে বাসায় ফেরার সময় একদিন শহরের অনেক জায়গা জুড়ে দেখলাম কোথাও কোন কন্স্রাটকশনের কাজ হয় কি না। নাহ হয় না।] – স্বল্প কথায় আরো যা যা বলা হয়েছে তা তোমরা বর্তমান যুগের সাথে মিলিয়ে দেখতে পারঃ ► শেষযুগে লোকেরা দুনিয়ার সম্পদ লাভ করার জন্য দ্বীনীশিক্ষা করতে থাকবে। ফলে এ ধরনের আলেমগণ দুনিয়ার স্বার্থের বিনিময় সঠিক আকিদা ও আমলের পরিপন্থী ফত্ওয়া সমর্থন করে দ্বীনকে ধ্বংস করার পায়তারা চালাবে। ►নেতাগণ সর্বসাধারণের টাকা পয়সা আত্মসাৎ করবে। ►আমানতের মালকে মানুষ লুটের মালের ন্যায় মনে করবে। ► জুলুম মনে করে ‘যাকাত’ দেওয়া বন্ধ করে দিবে। ►দুনিয়া উপার্জনের নিমিত্তে লোক ইলমে দ্বীন শিক্ষা করবে। ► পুরুষ লোক স্ত্রী লোকের বাধ্যগত হবে। ► সন্তান মাতার অবাধ্য হয়ে পড়বে। ► মানুষ অন্য লোককে আপন মনে করে আপন পিতার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করবে। ► মসজিদে দুনিয়াবি আলোচনা বেশি হতে থাকবে। ► গোত্রে গোত্রে এমন সব লোক নেতৃত্ব গ্রহণ করবে, যারা সব চেয়ে বেশি নিকৃষ্ট। ►চরিত্রহীন ও লোভী লোকদের উপর দায়িত্বপূর্ণ কাজের দায়িত্ব অর্পিত হবে। ► ক্ষতির আশংকায় এমন সব লোকদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হবে, যারা শরিয়ত বিরোধী জীবন যাত্রায় অভ্যস্ত। ► প্রকাশ্য মদ্যপান হতে থাকবে। ►গান বাজনা ও নাচের চর্চা প্রকাশ্যভাবে হতে থাকবে। ► উম্মতের মধ্যে এমন লোক হবে যারা পূর্ববর্তী মুহাদ্দিসীন ও ফকীহগণকে নিন্দা করবে এবং তাদের নির্বোধ বলবে। ► সমাজের নেতাগণ প্রকাশ্যে গোনাহের কাজ করবে। ► নানা রকম নিত্য-নূতন আপদ বিপদ দেখা দিবে। ►একের পর এক ভূমিকম্প হতে থাকবে। ► মানুষের আকার পরিবর্তন হবে। ►নানা রকম নিত্য-নূতন রোগ দেখা দিবে। ► শিলা বৃষ্টি হতে থাকবে। ► মুসলমান পুরুষগণ রেশমী কাপড় পরিধান করবে। ► দ্বীন-ইসলাম লোপ পেতে থাকবে। ► পুরুষ অপেক্ষা স্ত্রী লোকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। ► কখনও অনাবৃষ্টি, আবার কখনও অতিবৃষ্টি হতে থাকবে। ► জগতের কোন কোন অংশ ধ্বংসে পতিত হবে। ► মুসলমানগণ গান বাজনা রং তামাশায় মত্ত হয়ে পড়বে। ► ত্রিশজন মিথ্যাবাদী নিজেকে নবী বলে দাবি করবে। ► ইসলামকে ধ্বংস করার জন্য বিধর্মীগণ উঠে পড়ে লাগবে। ► মুসলমানগণ স্বীয় ধর্মীয় কাজে অবহেলা করবে। ► অনেক সুন্নত মৃত হবে, তদস্থানে বিদআতের প্রচলন হবে। ► দূর্ভিক্ষ ও মহামারি হতে থাকবে। ► নানা রকম চিকিৎসা পদ্ধতির উদ্ভাবন হবে। ► প্রত্যেক সুস্বাদু বস্তুর স্বাদ ও ঘ্রাণ দৈনন্দিন কমতে থাকবে। ► অত্যাচার, অবিচার, অনাচার ও ব্যভিচার বৃদ্ধি পাবে। ► মানুষের লজ্জা, শরম হ্রাস পাবে। ► মানুষ পরকাল ভুলে যাবে এবং জাগতিক আমোদ প্রমোদে মত্ত হয়ে পড়বে। ► মানুষ সম্মানের জন্য বিদ্যালাভ করবে, জ্ঞানের জন্য নয়। ► পবিত্র কোরআন শরীফকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার জন্য বিধর্মীগণ নানা অপকৌশল অবলম্বন করতে থাকবে। – আমরা দেখলাম কেয়ামতের পূর্বে যেসব আলামতের কথা বলা হয়েছিল তার বেশির ভাগই বর্তমান জমানার সাথে মিলে গেছে। তাহলে? ইসা(আ:) এর আগমন কি খুব বেশি দূরত্বে অবস্থান করছে??
5 months ago (February 1, 2021) 124 Views
Tags
Direct Link:
Share Tweet Plus Pin Send SMS Send Email

About Author (92)

Author

Nothing To Say....

Leave a Reply

You must be Logged in to post comment.

Related Posts



© 2021 All Right Received