Homeইসলামিক গল্প৩টি ইসলামিক শিক্ষনীয় গল্প একবার হলেও পড়ে যান……

৩টি ইসলামিক শিক্ষনীয় গল্প একবার হলেও পড়ে যান……

بسم الله الرحمن الرحيم

প্রিয় ভাই প্রথমে আমার সালাম নেবেন । আশা করি ভালো আছেন । কারণ TipsTrickBD এর সাথে থাকলে সবাই ভালো থাকে । আর আপনাদের দোয়ায় আমি ও ভালো আছি । তাই আজ নিয়ে এলাম আপনাদের জন্য একদম নতুন একটা টপিক। আর কথা বাড়াবো না কাজের কথায় আসি ।


[১]
রাত দশটা। নিঝুম রাত। অমাবস্যার রাতের ঘুটঘুটে অন্ধকারকে কতকটা ম্লান করেছে আসাদ সাহেবের সুদৃশ্য বাংলোর একটি ঘর থেকে ভেসে আসা আলো। নামাজের পাটিতে বসে আল্লাহর দরবারে দু-হাত তুলে অঝোরে কেঁদে চলেছেন আসাদ সাহেব। আসাদ সাহেব একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। ধন- দৌলতের কোনো অভাব নেই। কিন্তু তাঁর মনে কেন বিন্দুমাত্র শান্তি নেই? আসাদ সাহেবের একমাত্র কন্যা শাহানা। মা মরা মেয়েটাকে তিনি একটু বেশিই আদরে-আহ্লাদে বড় করেছেন। সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত হলেও তিনি ইসলামিক রীতি- নীতি-আদর্শ মেনে চলার যথাসাধ্য চেষ্টা করেন। শাহানাকেও তিনি তেমন ভাবেই তৈরি করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু নাহ্! তাঁর সে আশা পূর্ন হয়নি। শাহানা ঠিক তার বিপরীত ধ্যান-ধারণায় বিশ্বাসী। ইসলামিক রীতি- নীতিকে সে ব্যাকডেটেড বলে মনে করে। আসাদ সাহেব মেয়েকে নানাভাবে বোঝাতে চেয়েছেন। কিন্তু কোনো ফল হয়নি। তবুও তিনি হতাশ না হয়ে অনবরত আল্লাহর দরবারে তার হেদায়েতের জন্য দোয়া করতে থাকেন।
[২]
২২ বছরের তরতাজা যুবতী শাহানা। খোলামেলা পোশাক পরে সে নিজেকে আল্ট্রা মর্ডান দেখাতে চায়। বোরখা, হিজাব পরা মেয়েদেরকে সে বরাবরই অপছন্দ করে। আজ কলেজ থেকে ফিরে আসার পথে শাহানা খবর পেল তার ক্লাসমেট সালেহার আব্বু ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না ল্লিল্লাহি অ ইন্না ইলাইহি রাজিউন )। সৌজন্যমূলক সে সালেহার বাড়িতে গেল। সালেহাকে সমবেদনা ও সহানুভূতিপূর্ন কিছু কথা বলে সান্ত্বনা দিল। সালেহা সবটা শোনার পর শান্ত- দৃঢ় কন্ঠে বলল- “আমার কোনো আফসোস নেই। এতো আল্লাহরই ফরমান। তাঁর আমানত তিনি ফিরিয়ে নিয়ে নিয়েছেন। এতে আমার কষ্ট পাওয়ার কি আছে!? আমাকে তো সর্বাবস্থায় তাঁর শুকুর করা কর্তব্য। আমি তাঁর ইচ্ছার প্রতি আত্মসমর্পিত।” ইসলামিক নীতি- আদর্শ মানার কারনে শাহানা সালেহাকে বরাবরই অপছন্দ করতো। কিন্তু আজ তার ধৈর্যশীল ও দৃঢ়চেতা মনোভাব দেখে শাহানা বিস্ময়বোধ করলো। সে ভাবতে লাগল – হৃদয়ের এই বলিষ্ঠতা সে পেল কোথা থেকে? কিভাবে সে এতটা নিরুদ্বিগ্ন রইলো? সালেহার এই নিরুদ্বেগ সন্তুষ্টির কারন সে খুঁজতে লাগল। সালেহার ওই সন্তুষ্টি ও দৃঢ়তা বিষ্ময়াচহন আর বড় এক প্রশ্নচিহ্ন হয়ে তার মনের নীলিমায় ঝুলে রইলো। বেশ কিছুদিন পরে সালেহাকে তড়িঘড়ি কলেজ থেকে বের হতে দেখে শাহানা জিজ্ঞাসা করে জানতে পারল তার আম্মু ইন্তেকাল করেছেন ( ইন্না লিল্লাহি……..)। শোনা মাত্রই শাহানা ছুটে গেল তাকে সান্ত্বনা জানাতে । সে ভাবতে লাগল- সালেহা এবার নিশ্চয় ভেঙে পড়বে। এবার তার দৃঢ়তার প্রাচীর কিভাবে অটুট থাকে দেখি! বেশ কিছুক্ষণ ধরে সে সালেহার তাজা জখমে সান্ত্বনা আর সহমর্মিতার প্রলেপ লাগাল। সালেহা ধীর-স্থির ভাবে সবকিছু শোনার পর আকাশের দিকে তর্জনী উঠিয়ে বলল – “আল্লাহর ইচ্ছার বাইরে কারো নিশ্বাস ফেলার ক্ষমতাটুকুও নেই রে। যা ঘটেছে তাঁরই হুকুমে ঘটেছে। তিনি সমস্ত কিছুর মালিক , তিনি তাঁর আমানত নিয়ে নিয়েছেন। এতে অখুশি হওয়ার কি আছে!? কেন আমরা মালিকের সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হয়ে আত্মাকে কলুষিত করবো?” শাহানা আশ্চর্য হয়ে অনুসন্ধিত্সু দৃষ্টি দিয়ে সালেহার দিকে গভীর ভাবে দেখলো। না,এই মেয়েটি পাথরের মানুষ নয়। আবেগ- বেদনা তারও আছে। যন্ত্রণার একটি করুন কান্না যেন তার হৃদয়ে বাজছে,কিন্তু মুহূর্তেই তা মিলিয়ে যাচ্ছে অলৌকিক এক হাওয়ার হিন্দোলে। সালেহার তর্জনী আকাশের দিকে উঠে ছিল কিন্তু তা যেন আমূল বিদ্ধ হয়ে গেল শাহানার হৃৎপিন্ডে। হৃৎপিন্ড থেকে যেন অবিরাম রক্ত ঝরতে লাগল আর তার অবিশ্বাসী মন বিশ্বাসী হতে থাকল। আল্লাহর থেকে পলায়নপর আত্মা প্রকৃত ঠিকানার দিকে ডানা ঝাপটাতে শুরু করলো। সালেহার ঈমানের পাথর সমান দৃঢ়তা প্রত্যক্ষ করে তার কলুষিত আত্মা সুদৃঢ় ঈমানের সরোবরে ঝাঁপ দেওয়ার জন্য চঞ্চল হয়ে উঠল। অদ্ভুত এক আলোর দ্যুতি যেন তার হৃদয়কে আচ্ছন্ন করে ফেলল।
[৩]
সন্ধা সাতটা বেজে গিয়েছে। এখনও শাহানা বাড়িতে ফেরেনি। আসাদ সাহেব উদ্বিগ্ন ভাবে ব্যালকনিতে পায়চারি করছেন। হঠাৎ কলিংবেল বেজে উঠল। আসাদ সাহেব দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলে দেখলেন একজন বোরখা পরা মহিলা। আপাদমস্তক ঢাকা। শুধু চোখ দুটো দেখা যাচ্ছে। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন- কে আপনি? কোনো উত্তর আসলো না। মহিলাটি শুধু সুন্দরভাবে সালাম দিল (আস্ সালামু আলাইকুম…..) । আসাদ সাহেব সালামের জবাব দিয়ে ( ওয়া আলাইকুমুস সালাম…..) মহিলার দিকে তাকিয়ে দেখলেন চোখ দুটো যেন খুব পরিচিত । মহিলাটি মুখের ওড়না সরালো। আসাদ সাহেবের কৌতুহলী দৃষ্টি হঠাৎ বিস্ময়ে পরিণত হল। অবাক- বিষ্ময়ে পাথর হয়ে যাওয়া আসাদ সাহেব অস্ফুটে বলে উঠলেন – শাহানা মা! তুই….! শাহানা কান্না বিজড়িত কন্ঠে বলল – আব্বু! আজ একজনের অসিলায় আল্লাহ্ তায়ালা হেদায়েতের আলোয় আমার আত্মাকে নিষ্কলুষ করে দিয়েছেন। আসাদ সাহেবের দু-গন্ড বেয়ে অঝোরে আনন্দাশ্রু ঝরতে লাগল। তিনি দু-হাত তুলে বলে উঠলেন – “হে আল্লাহ্! কৃতজ্ঞতা জানানোর মতো কোনো ভাষা আমার নেই। শুধু তোমার দরবারে জানাই কোটি কোটি শুকরিয়া।”

তাহলে ভাই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন TipsTrickBD এর সাথে থাকুন।ধন্যবাদ ।

9 months ago (February 28, 2021) 134 Views
Tags
Direct Link:
Share Tweet Plus Pin Send SMS Send Email

About Author (92)

Author

Nothing To Say....

1 responses to “৩টি ইসলামিক শিক্ষনীয় গল্প একবার হলেও পড়ে যান……”

  1. 😮

Leave a Reply

You must be Logged in to post comment.

Related Posts



© 2021 All Right Received