HomeLife Styleওজন কমাতে যে খাবার গুলো বেশি করে খেতে হবে

ওজন কমাতে যে খাবার গুলো বেশি করে খেতে হবে

بسم الله الرحمن الرحيم

প্রিয় ভাই প্রথমে আমার সালাম নেবেন । আশা করি ভালো আছেন । কারণ TipsTrickBD এর সাথে থাকলে সবাই ভালো থাকে । আর আপনাদের দোয়ায় আমি ও ভালো আছি । তাই আজ নিয়ে এলাম আপনাদের জন্য একদম নতুন একটা টপিক। আর কথা বাড়াবো না কাজের কথায় আসি ।


ওজন কমাতে আমরা কত কিছুই না করি! প্লেটে খাবারের পরিমাণ কমিয়ে শশা, গাজর আর সুপ খেয়েই কাটিয়ে দিই দিনের পর দিন। তারপরও এত কষ্টের ফলাফল ওজন মেশিন খুব সহজে দিতে চায় না। ডায়েট শুরুর প্রথম দিকে চটপট ওজন কমলেও একটা সময় পর ওজন হ্রাসের গতি কমে আসে। হতাশা নিয়ে অনেকে আবিষ্কার করেন, ওজন তো কমছেই না বরং দীর্ঘদিন থেকে সুপ আর শশা খাওয়ার ফলে শরীরে দেখা দিচ্ছে অপুষ্টি। চুল পড়ে যাচ্ছে, চামড়া শুষ্ক হয়ে পড়ছে, চেহারায় লাবণ্য নেই বললেই চলে। পুষ্টিবিজ্ঞানীরা বলেন, শরীর দীর্ঘদিন ধরে তার প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও খাবার না পেলে ‘স্টারভেশন’ অবস্থায় চলে যায়। প্রয়োজনের তুলনায় কম পরিমাণে খাবার পাওয়ার কারণে শরীর সেই খাবার ব্যবহার করার পরিমাণ কমিয়ে দেয় এবং খাবারকে জমিয়ে রাখতে শুরু করে। এটাই হল ‘স্টারভেশন’ অবস্থা। শরীর যখন খাবার ব্যবহার না করে জমাতে শুরু করে, তখন ওজন তো কমেই না বরং অনেক ক্ষেত্রেই বাড়তে শুরু করে। অন্যদিকে শরীরের ভেতরের কার্যকলাপ কম গতিসম্পন্ন হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় খাবারের অভাবে মেটাবলিক সিস্টেমের কার্যক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার কারণে খাবারের ক্যালরি চর্বি হয়ে শরীরে জমা হতে শুরু করে। তাহলে উপায়? এমন কি কোনো ‘ম্যাজিক’ নেই, যাতে করে পেট ভরে খেলেও বাড়বে না ওজন! উত্তর হল, আছে। পুষ্টিবিজ্ঞানীরা ৭ ধরনের খাদ্যোপাদানকে ‘ম্যাজিক ফুড’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁদের মতে, এ ৭ ধরনের খাবার পরিমিত পরিমাণে নিয়মিত খেলে ওজন অবশ্যই কমবে। ফল ও সবজি এ খাবারগুলোতে মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট ও ফাইবার বেশি থাকার কারণে তা কোলেস্টেরল ও পেটের চর্বি কমাতে সাহায্য করে। খাবারের আঁশ চর্বিকণাকে বেঁধে ফেলে এবং মলমূত্রের মাধ্যমে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। পাশাপাশি ফল ও সবজিতে আঁশজাতীয় উপাদান বেশি থাকার কারণে ক্ষুধার অনুভূতি হ্রাস করে। প্রতিদিন অন্তত চার-পাঁচ ধরনের ফল ও সবজি খেলে তা অন্যান্য খাবারের প্রতি আকর্ষণ কমায়। এ বিশেষ কয়েকটি কারণেই পেটের মেদ কমাতে ফল ও সবজি কাজ করে থাকে। সবুজ চা হালকা এ পানীয় কেবল শরীরকে সতেজই রাখে না, সঙ্গে ওজন কমানোর ক্ষেত্রেও কার্যকরী ভূমিকা রাখে। সবুজ চায়ে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের প্রাচুর্য পরোক্ষভাবে অতিরিক্ত চর্বি ঝরাতে সাহায্য করে। বাদাম ও অলিভ অয়েল প্রতিদিনের খাবার তালিকায় প্রোটিন থাকা যেমন অত্যাবশ্যক, ঠিক তেমনি জরুরি ‘ফ্যাট’- জাতীয় খাবারের উপস্থিতি। আঁতকে উঠলেন? কিন্তু এটাই সত্যি। পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, সব ‘ফ্যাট’ই শরীরের জন্য ক্ষতিকারক নয়। শরীরকে সব ধরনের খাদ্য উপাদানের সুষম বণ্টনই সুস্থতাকে নির্দেশ করে। প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ভিটামিন ও মিনারেলের মতো দেহে ফ্যাটেরও প্রয়োজন। বিশেষ করে কিছু ভিটামিন শোষণের জন্য প্রয়োজন ফ্যাট। এ, ডি, কে এবং ই ভিটামিনের অভাব দেখা দিতে পারে, যদি শরীর তার প্রয়োজনমতো ফ্যাটের সরবরাহ থেকে বঞ্চিত হয়। তাই প্রতিদিনের খাবার তালিকায় রাখুন কাঠবাদাম, চিনাবাদাম, কুমড়ার বিচি, শিমের বিচি, কিডনি বিন ও জলপাইয়ের তেল। বাদাম ও দানাজাতীয় খাবার থেকে যে ফ্যাট পাওয়া যায় তাকে পুষ্টিবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট’। এই ফ্যাট রক্ত থেকে খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমিয়ে ভালো কোলেস্টেরলের পরিমাণ বাড়াতে সাহায্য করে। মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট ত্বক ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের দেখভাল করে, চামড়ার মসৃণতা বাড়াতে সাহায্য করে পাশাপাশি মেটাবলিক রেট বাড়ায়, যা ওজন হ্রাসে ভূমিকা রাখে। সামুদ্রিক মাছ সামুদ্রিক মাছে থাকে ওমেগা ত্রি ফ্যাটি অ্যাসিড। এই অ্যাসিড মেদ বৃদ্ধিতে দায়ী চর্বিকে পোড়াতে এবং শরীরে ভালো চর্বির পরিমাণ বাড়াতে সাহায্য করে। সামুদ্রিক মাছ থেকে যে ফ্যাট পাওয়া যায় তার নাম ‘পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট’। বাদাম ও জলপাই তেলের মতো সামুদ্রিক মাছের ফ্যাটও ওজন হ্রাসে ভূমিকা রাখে। মসলা রান্নায় যেসব মসলা ব্যবহার করা হয়, যেমন রসুন, হলুদ, দারুচিনি, আদা— এগুলো বাংলাদেশের আবহাওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। মসলার নিজস্ব গুণাগুণের কারণে তা শরীরকে আয়ুর্বেদিক কিছু উপকারিতা দিয়ে থাকে। আবার মসলা খাবারকে সহজপাচ্য করে, যা খাবারকে সুস্বাদু করার সঙ্গে সঙ্গে হজমেও সাহায্য করে। আদা, দারুচিনি ও হলুদের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট পরোক্ষভাবে ওজন কমাতে সহায়ক হিসেবে কাজ করে থাকে। পানি শরীর থেকে বর্জ্য বের করে দিতে পানির ভূমিকা অসাধারণ। বলা হয়, প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ গ্লাস পানি ওজন হ্রাসে সরাসরি ভূমিকা রাখে। পানি শরীরকে সতেজ রাখে, অযথা ক্ষুধাভাবকে দূর করে। বারবার পানি পান করার ফলে শরীর চাঙাবোধ করে। মেটাবলিজম বৃদ্ধি পায়। তাই ওজন কমানোর অন্যতম আরেকটি জরুরি পদক্ষেপ পানি খাওয়ার পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া। আঁশজাতীয় খাবার এই ধরনের খাবার রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে, যা রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। আঁশজাতীয় খাবারে ভিটামিন-বি বেশি থাকে, যা রোগ- প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। পাশাপাশি আমাদের বেসাল মেটাবলিক রেট (বিএমআর) সচল রাখার মাধ্যমে শরীরকে তার খাবার পরিপূর্ণভাবে সদ্ব্যবহার করতে সাহায্য করে। শরীরে অতিরিক্ত ক্যালরি জমা রাখার প্রবণতা কমাতে আঁশজাতীয় খাবারের জুড়ি মেলা ভার।

তাহলে ভাই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন TipsTrickBD এর সাথে থাকুন।ধন্যবাদ ।

9 months ago (March 13, 2021) 91 Views
Tags
Direct Link:
Share Tweet Plus Pin Send SMS Send Email

About Author (92)

Author

Nothing To Say....

Leave a Reply

You must be Logged in to post comment.

Related Posts



© 2021 All Right Received