বাংলা সনের ইতিহাস: কে চালু করলেন এই গণনা?

History of Bengali Year: Who started this calculation?বাংলা সনের ইতিহাস: কে চালু করলেন এই গণনা?

বাংলা সনের ইতিহাস: কে চালু করলেন এই গণনা?

বাংলা সনের ইতিহাস: কে চালু করলেন এই গণনা?

আমরা প্রতি বছর পহেলা বৈশাখে নতুন বাংলা সন উদযাপন করি। গান, নাচ, মঙ্গল শোভাযাত্রা—সবাই মিলে আনন্দ করি। কিন্তু এই বাংলা সন বা বঙ্গাব্দ আসলে কবে থেকে শুরু হলো? কে এটা চালু করেছিলেন? ইতিহাস কী বলে? চলুন সহজ ভাষায় জেনে নিই।
ইতিহাসবিদদের মতে, আজকের যে বাংলা সন আমরা ব্যবহার করি, তার আধুনিক রূপ চালু করেন মুঘল সম্রাট আকবর। ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দে (অর্থাৎ প্রায় ৪৪২ বছর আগে) তিনি এই নতুন গণনা পদ্ধতি প্রবর্তন করেন। তবে এর গণনা শুরু হয় আকবরের সিংহাসনে আরোহণের বছর থেকে—১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দের ৫ নভেম্বর। সেই সময় এটাকে বলা হতো ‘তারিখ-ই-ইলাহি’ বা ‘ফসলি সন’। আকবরের দরবারের বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী ফতুল্লাহ শিরাজী এই ক্যালেন্ডার তৈরিতে সাহায্য করেন।
কেন চালু করা হলো? তখন হিজরি সন চাঁদের হিসাবে চলত। ফলে ফসল কাটার সময় আর খাজনা দেওয়ার তারিখ মিলত না। কৃষকদের খুব অসুবিধা হতো। আকবর চাইলেন সৌর সনের মতো একটা ক্যালেন্ডার, যাতে ঋতু আর ফসলের সঙ্গে খাজনা আদায় মিলে যায়। তাই প্রাচীন হিন্দু সৌর পঞ্জিকা (সূর্য সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে) আর ইসলামি হিজরি সনের মিশ্রণে নতুন এই ব্যবস্থা তৈরি হয়। বাংলায় এটা ‘বাংলা সন’ নামে পরিচিতি পায়।
তবে কিছু ইতিহাসবিদ বলেন, বাংলা সনের শিকড় আরও পুরনো। গৌড়ের রাজা শশাঙ্ক (৫৯৪ খ্রিস্টাব্দের দিকে) নাকি প্রথম এই ধরনের সৌর গণনা চালু করেছিলেন। বর্তমান বাংলা সালের সঙ্গে খ্রিস্টাব্দের ব্যবধান প্রায় ৫৯৩-৫৯৪ বছর, যা শশাঙ্কের সময়ের সঙ্গে মিলে যায়। তাই অনেকে মনে করেন, আকবর শুধু পুরনো পদ্ধতিকে সংস্কার করে খাজনা আদায়ের উপযোগী করেছিলেন।
যাই হোক, আজকের বাংলা সন আমাদের সংস্কৃতির অংশ হয়ে উঠেছে। এটা শুধু তারিখ নয়, বাঙালির ঐতিহ্য ও আনন্দের প্রতীক। পহেলা বৈশাখে যখন নতুন বছর শুরু হয়, তখন মনে হয় ইতিহাসের এই যাত্রাটা আজও আমাদের সঙ্গে আছে।